আন্তর্জাতিক

তাইওয়ানের সাথে কয়েক দশক ধরে চলে আসা নিয়ম ভাঙবেন ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪১ মিনিট আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দশকের পর দশক ধরে চলে আসা কূটনৈতিক নিয়ম ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে ফোনালাপ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। আমরা তাইওয়ান সমস্যাটি নিয়ে কাজ করব।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বৃহস্পতিবার সকালে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে মার্কিন নেতার সঙ্গে কথা বলতে পারলে খুশি হবেন।

 

১৯৭৯ সালে ওয়াশিংটন যখন তাইপেই-এর বদলে বেইজিংকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়, তারপর থেকে মার্কিন ও তাইওয়ানিজ প্রেসিডেন্টদের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগাযোগ বা ফোনালাপ হয়নি। তবে ২০১৬ সালের শেষের দিকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তৎকালীন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে কয়েক দশকের কূটনৈতিক নজির ভেঙেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় বেইজিং এ নিয়ে মার্কিন সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছিল। গত সপ্তাহে চীনের নেতা সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে এটি যে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল বক্তব্য ছিল না, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ফোনালাপের কোনো সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করা চীন সাধারণত মার্কিন-তাইওয়ানের যেকোনো সরাসরি যোগাযোগের তীব্র বিরোধিতা করে। ট্রাম্পের এবারের বক্তব্য তাইপেই-এর জন্য কিছুটা মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। লাই চিং-তে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগকে স্বাগত জানালেও, ট্রাম্পের মুখে ‘তাইওয়ান সমস্যা’ শব্দবন্ধটি বেইজিংয়ের ব্যবহৃত ভাষার প্রতিধ্বনি হিসেবে দেখছেন অনেকে। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে পরিচিত লাই চিং-তে বুধবার বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তিনি জানাবেন যে তাঁর সরকার তাইওয়ান প্রণালীতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের বিশাল সামরিক শক্তি বৃদ্ধিই মূলত শান্তি বিনষ্ট করছে। তিনি আরও যোগ করেন, কোনো দেশেরই তাইওয়ানকে সংযুক্ত করার অধিকার নেই এবং তাইওয়ানের জনগণের গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন জীবনযাত্রাকে উস্কানি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

 

ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে তাইওয়ানের কাছে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। তবে ট্রাম্প এই অস্ত্র বিক্রিকে একটি ‘খুব ভালো দর কষাকষির ঘুঁটি’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে ‘অসাধারণ’ উল্লেখ করে ট্রাম্প গত সপ্তাহে বেইজিং সফরের পর জানান, তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, যা দ্বীপ রাষ্ট্রটির প্রতি মার্কিন সমর্থনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। 

 

মার্কিন আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় সরবরাহ করতে ওয়াশিংটন বাধ্য এবং রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ট্রাম্প প্রশাসনকে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের এই দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনের পরই তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, যার বড় অংশই নির্ভর করে বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখা উন্নত সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ রপ্তানির ওপর।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন