আন্তর্জাতিক, ভারত

তাজমহলের নিচে শিব মন্দির খোঁজার জবাব চাইল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান তাজমহলে বৈজ্ঞানিক জরিপ চালানোর আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল আগ্রার একটি আদালত। নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ-এর কাছ থেকে জবাব তলব করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

সোমবার (৬ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়াল এই নোটিশ জারি করেন। মামলাকারীদের দাবি- তাজমহল আসলে মুঘল স্থাপত্য নয়, এটি মূলত ভগবান শিবের একটি প্রাচীন মন্দির ছিল।


আদালতে এই পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছে ‘ভগবান শ্রী আগ্রেশ্বর মহাদেব নাগনাথেশ্বর বিরাজমান’ দেবতাকে বাদী করে। দেবতা ও ভক্তদের পক্ষে নেক্সট ফ্রেন্ড বা আইনি প্রতিনিধি হিসেবে মামলাটি লড়ছেন আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন। উল্লেখ্য, এর আগে রাম জন্মভূমি, কৃষ্ণ জন্মভূমি এবং কাশী বিশ্বনাথ-জ্ঞানবাপী মসজিদ বিতর্কের মামলাগুলোতেও তিনি অন্যতম আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।


মামলাকারীদের মূল দাবিগুলো হলো: তাজমহলকে একটি হিন্দু মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হোক, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হিন্দুদের সেখানে পূজার্চনা করার অনুমতি দেওয়া হোক, তাজমহল চত্বরে মুসলিমদের নামাজ পড়ার যে অনুমতি এএসআই দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি করা হোক।


নিজেদের দাবির সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে মামলাকারীরা একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের দাবি জানান, যিনি পুরো স্মৃতিসৌধটি পরিদর্শন করে ছবি ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবেন। এর আগে এপ্রিল মাসে আগ্রার অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারপতি এই আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। নিম্ন আদালত জানিয়েছিল, বাদীরা সম্পত্তির সঠিক খতিয়ান বা রাজস্ব রেকর্ড জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং মামলার বিবরণের সাথে বিবাদীদের নথির মিল নেই। এরপরই মামলাকারীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে দায়ের হওয়া একই ধরনের আরেকটি মামলাও আগ্রা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।


হাইকোর্টে দায়ের করা পিটিশনে দাবি করা হয়েছে যে, দ্বাদশ শতাব্দীতে তাজমহলটি মূলত তেজো মহালয় নামের একটি শিব মন্দির হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে মুঘল আমলে এটি দখল করে এর রূপ পরিবর্তন করা হয়। এই দাবির পক্ষে তারা তাজমহলের গম্বুজের চূড়া, পদ্মফুলের নকশা এবং এএসআই-এর নথিতে উল্লিখিত একটি গোশালা'র মতো স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।


পাশাপাশি মামলাকারীদের অভিযোগ, তাজমহলের বেশ কিছু অংশ এবং ভূগর্ভস্থ কুঠুরিগুলো সাধারণের জন্য বন্ধ ও দুর্গম করে রাখা হয়েছে। যেহেতু এটি একটি সংরক্ষিত স্মৃতিসৌধ, তাই সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাদের পক্ষে সেখানে গিয়ে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ছবি তোলা সম্ভব নয়। ফলে আদালতের তত্ত্বাবধানে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিদর্শন এবং ভিডিওগ্রাফি অত্যন্ত জরুরি।


হাইকোর্টে মামলাকারীদের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে, নিম্ন আদালত যেসব কারণে তাদের আবেদনটি খারিজ করেছে তা মোটেও যৌক্তিক নয়। তাজমহলের পরিচয় নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই, বরং এর ভেতরের স্থাপত্যশৈলী এবং বন্ধ অংশগুলোর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জন্য কেবল মৌখিক সাক্ষ্য যথেষ্ট নয়; এর জন্য শারীরিক ও বৈজ্ঞানিক পরিদর্শন প্রয়োজন।


আদালত কেন্দ্র ও এএসআই-এর জবাব তলব করায় এই শতাব্দীপ্রাচীন সৌধটিকে ঘিরে আইনি বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিল।


সূত্র: দ্য হিন্দু


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন