ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপ

তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন ৪৭.৬ শতাংশ মানুষ

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে চান ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। অপরদিকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। 'পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। জরিপের বিস্তারিত তথ্য ও ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জরিপ প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার।

 

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পূর্ববর্তী রাউন্ডের জরিপের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, যারা আগে ভোট দেবেন বলেছিলেন তাদের ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ সিদ্ধান্তে অটল আছেন। চমকপ্রদ তথ্য হলো, যারা আগে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি যারা আগে কোনো মতামত দেননি, তাদেরও ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবার ভোট দিতে চান। জেনজি (Gen-Z) প্রজন্মের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ কিছুটা কম হলেও সামগ্রিক হার সন্তোষজনক।

 

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমনে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে এই জরিপে। ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে, যা গত রাউন্ডের চেয়ে বেশি। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ধারণার উন্নতি হওয়ায় ৮২ শতাংশ মানুষ মনে করছেন তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন, যা আগের রাউন্ডে ছিল ৭৮ শতাংশ।

 

আগামীকাল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নিজ এলাকায় কোন দল জিততে পারে এমন প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে মত দিয়েছেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। রাউন্ড-২ এর তুলনায় বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি তাদের মূল জনসমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের একটি বড় অংশকে নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে। সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। তবে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।

 

বিএনপি ও তাদের জোট ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। জরিপ বলছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনা (জরিপের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) অনেক সিদ্ধান্তহীন ভোটারকে বিএনপির দিকে ঝুঁকতে সহায়তা করেছে।

 

ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হবেন প্রশ্নে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ তারেক রহমানের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে আছেন ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ এনসিপির আহ্বায়ক এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো জানেন না কে হবেন ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী, যা নির্বাচনি ফলাফলের অনিশ্চয়তার দিকে ইঙ্গিত করে।

 

জরিপে গণভোটের পক্ষে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যদিও ২২ শতাংশ এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ (৬৯.৭ শতাংশ) এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, যেখানে পুরুষদের ৭৭.৫ শতাংশ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফল নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, ভয়েস ফর রিফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জ্যোতি রহমান এবং ইনোভেশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান। বক্তারা উল্লেখ করেন, ভোটব্যাংকে অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণার কৌশলের ওপর ভিত্তি করে বিএনপি ও জামায়াত জোটের ব্যবধান কমে আসতে পারে।

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন