জিয়া-জাসদের আঁতাতের ফল পঁচাত্তরের ৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলী, বলছেন আওয়ামী লীগ। ১৬ই ডিসেম্বর নয়, প্রকৃত বিজয় এসেছে ৭ই নভেম্বরে-দাবি বিএনপির।
জিয়াউর রহমানের সঙ্গে জাসদের আঁতাতের ফসল পঁচাত্তরের ৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলী। যার মাধ্যমে দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় চালানোর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হয়েছে। এমনটাই মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে জিয়া নিজেই জাসদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে দাবি করে তার সঙ্গে কোনও রকম আঁতাতের কথা মানতে নারাজ জাসদ। যদিও কীভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন জিয়া সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। অন্যদিকে, বিএনপি নেতাদের দাবি, ১৬ই ডিসেম্বরে প্রকৃত বিজয় আসেনি, তা এসেছে ৭ই নভেম্বরে।
পঁচাত্তরের ৭ই নভেম্বর। ৪৫ বছর আগের সেই দিনটিকে আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস, বিএনপি বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং জাসদ সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নভেম্বরে দেশের ইতিহাসের আরেকটি বাঁক বদলে তিন তারিখে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে গৃহবন্দী হন তখনকার সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে ছয়ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশসকের দায়িত্ব দেয়া হয় বিচারপতি আবু সায়েমকে।
এরইমধ্যে খালেদ মোশাররফকে ঠেকাতে কর্নেল তাহেরের সহায়তা চান জিয়াউর রহমান। মুক্ত হন জিয়া, হত্যা করা হয় খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা ও কর্নেল হায়দারসহ বেশ কজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে। এছাড়াও সৈনিকরা বেশ কজন অফিসারকে হত্যা করেন। এ সময়ই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জেনারেল জিয়া।
তবে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে জাসদের তখন কোন আঁতাত হয়নি বলে এখনও দাবি করেন জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু। সিপাহী জনতার বিপ্লব বলা হলেও সে বিপ্লবে জনতার অংশগ্রহন কতটুকু ছিল তা নিয়ে জোরালো কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, কর্নেল তাহের সিপাহী জনতার অভ্যুথানে মহৎ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু জেনারেল জিয়াউর রহমান সেই লক্ষ্যের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে খলনায়কে পরিণত হয়েছে,ইতিহাসের বেঈমানে পরিণত হয়েছে।জেনারেল জিয়ার সঙ্গে কর্নেল তাহেরের বা জাসদের কোন্দিন আলোচনা হয়নি। এমন কোন তথ্য কখনোই বের হয়নি।
তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশ্ন, আঁতাত না হলে কি বিশ্বাসঘাতকতা সম্ভব?
আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সাবেক সদস্য নূহ আলম লেনিন বলেন, কিছু বিশ্বাস স্থাপন করলেই বিশ্বাসঘাতকতা হয়। দুইজনের মধ্যে যদি কোন সম্পর্ক না থাকলে তা ভেঙ্গে গেলো কিভাবে। জাসদের লক্ষ্য ছিল জিয়াউর রহমানকে দিয়ে তারা একটা তথাকথিত সৈনিক জনতার যে বিপ্লব সেটিকে একটী বিপ্লবি সরকারে প্রতিষ্ঠিত করবে।
তবে বিএনপি নেতাদের দাবি পাকিস্তানী ভাবধারায় পরিচালিত করতে নয়, দেশকে সংকট মুক্ত করতেই সেদিন জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৬ই ডিসেম্বর আমরা মুক্ত হয়েছি, একটা পতাকা পেয়েছি, ভৌগলিক এলাকা পেয়েছি। আশঙ্কা ছিল যে আমরা সার্বভৌমত্ব কি না। ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়কে ৭ই নভেম্বর পরিপুর্ণতা এনেছে।
সাতই নভেম্বরের অভিঘাত হিসেবে টানা নব্বই পর্যন্ত সামরিক শাসন চলে দেশে। বদলে ফেলা হয় মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির সংবিধান।