শরীরের তাপমাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, মেজাজ ভালো করা, স্মৃতিশক্তি বাড়ানো ইত্যাদি নানা বিষয়ের মূলে আছে শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখা, অর্থাৎ পর্যাপ্ত পানি পান করা। তবে শুধু পানি আমাদের দেহের আর্দ্রতা ধরে রাখতে যথেষ্ট নয়। আর্দ্রতার অভাবে আমাদের মুখের মধ্যে আঠালো ও শুষ্ক অনুভূতি হয়, বারবার তৃষ্ণা লাগে, মুখের মধ্যে ফুস্করি বা ঠোঁটে ফাটল দেখা দেয়, গলাতে শুষ্ক অনুভূতি হয়, শুষ্ক, লাল, আঁচড় কাটা জিহ্বা হয়, খাবার চিবাতে ও গিলতে সমস্যা হয়, ইত্যাদি।
কিন্তু তীব্র গরমে ঘামের সঙ্গে যে পরিমাণ পানি, লবণ শরীর থেকে বের হয়ে যায়, তার ঘাটতি শুধু পানি পূরণ করতে পারে না। পুষ্টিবিদদের মতে, সাধারণ পানি শুধু তৃষ্ণা মেটানোর কাজ করে। কিন্তু যে খনিজগুলো ঘাম এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়, তার ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। তাই শুধু পানি খাওয়াই যথেষ্ট নয়। খেতে হবে ইলেক্ট্রোলাইট পানি।
আপনি কি জানেন ইলেক্ট্রোলাইট পানি কী?
ইলেক্ট্রোলাইট পানি খনিজ পানি বা ক্ষারীয় জল হিসেবে পরিচিত। শুধুমাত্র তার সহায়তায় শরীরের অঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়। এগুলো আপনার শরীরে তরল হিসেবে সারা শরীর জুড়ে সঞ্চালিত হয় এবং দেহের ক্রিয়াকলাপগুলোর জন্য বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে।
ইলেক্ট্রোলাইট পানি হল সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো খনিজগুলোর মিশ্রণ যা মস্তিষ্ক এবং কিডনি থেকে হার্টকে সুরক্ষিত করতে কাজ করে।
ইলেক্ট্রোলাইটের কাজ কী কী
১. শরীরে জলের পরিমাণ ভারসাম্য রক্ষা করা
২. শরীরের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখা
৩. কোষে পুষ্টি পরিবহন করা
৪. স্নায়ু, পেশী, হার্ট এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা
৫. ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু পুনর্নির্মাণ করতে সাহায্য করা
৬. হাঁটা, শ্বাস-প্রশ্বাস, হাসি এমনকি চিন্তা করার জন্যও ইলেক্টোলাইট প্রয়োজন।
ইলেক্ট্রোলাইট পানি তৈরি প্রণালি
উপকরণ
পানি: ২ কাপ
কমলার রস: আধ কাপ
লেবুর রস: ১০ চা চামচ
সামুদ্রিক লবণ: এক চিমটি
মধু: ২ চা চামচ
সব উপকরণগুলি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। চাইলে সামান্য বরফ যোগ করতে পারেন। তৈরি হয়ে যাবে আপনার ইলেক্ট্রোলাইট পানি।
ডিবিসি/ এমএলএন