পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের নির্বাচনে কেবল ক্ষমতা হারানোই নয়, দলটির হেভিওয়েট নেতাদের ভরাডুবি রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিদায়ী সরকারের ৩৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনই নিজ নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন। অর্থাৎ, মমতার মন্ত্রিসভার প্রায় ৬৩ শতাংশ সদস্যই জনসমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সবচেয়ে বড় চমক এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পরাজয়। নিজের দীর্ঘদিনের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কলকাতার ভবানীপুর আসনে পরাজিত হয়েছেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর এই পরাজয় দলের কর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেবল মুখ্যমন্ত্রী নন, তৃণমূল সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীরাও পরাজিত হয়েছেন। আবাসন, বিদ্যুৎ, শিল্প, শিক্ষা, নারী ও শিশুকল্যাণ, এবং পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সাধারণ মানুষের রায় পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তালিকায় রয়েছেন: শিক্ষা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ব্রাত্য বসু ও মলয় ঘটক, পরিবহন ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের স্নেহাশিষ চক্রবর্তী ও অরূপ বিশ্বাস। নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শশী পাঁজা। তপশিলি ও অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বীরবাহা হাঁসদা।
নির্বাচনী পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ তৃণমূলের কোনো মন্ত্রীই রেহাই পাননি। পরাজিতদের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে: মমতা ব্যানার্জি (মুখ্যমন্ত্রী), অরূপ বিশ্বাস, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, সুজিত বসু, ইন্দ্রনীল সেন, বেচারাম মান্না, স্বপন দেবনাথ, বুলু চিক বরাইক, প্রদীপ মজুমদার, বীরবাহা হাঁসদা, মানস ভূঁইয়া, মলয় ঘটক, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, উদয়ন গুহ, সন্ধ্যারানি টুডু, বঙ্কিম হাজরা, উজ্জ্বল বিশ্বাস, স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, শ্রীকান্ত মাহাতো, সত্যজিৎ বর্মণ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ডিবিসি/ এসএফএল