বিবিধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

তেলাপোকা মাথা ছাড়া ১ সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে!

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

শুনতে অবিশ্বাস্য বা ভৌতিক মনে হলেও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি ধ্রুব সত্য। শিরশ্ছেদের পরেও একটি তেলাপোকা বা আরশোলা প্রায় এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়া মানেই তাৎক্ষণিক মৃত্যু, কিন্তু তেলাপোকার শরীরের অদ্ভুত গঠনশৈলী তাদের এই ভয়ংকর অবস্থাতেও বাঁচিয়ে রাখে।

ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজিস্ট এবং স্নায়ুবিজ্ঞানী জোসেফ এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মানুষের রক্তচাপ অনেক বেশি থাকে, তাই মাথা কেটে গেলে বা বড় কোনো আঘাত পেলে তীব্র রক্তক্ষরণে মানুষ দ্রুত মারা যায়। অন্যদিকে, তেলাপোকার দেহে মুক্ত সংবহনতন্ত্র থাকার কারণে এদের রক্তচাপ খুবই কম হয়। ফলে মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শরীর থেকে খুব সামান্যই রক্ত বের হয় এবং সেই স্থানটি দ্রুত জমাট বেঁধে বন্ধ হয়ে যায়। এই দ্রুত জমাট বাঁধার ক্ষমতাই তাদের রক্তক্ষরণজনিত মৃত্যু থেকে রক্ষা করে।

 

শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রেও তেলাপোকা মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল নয়। মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর মতো নাক বা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার বদলে এরা শরীরের বিভিন্ন খণ্ডে থাকা ছোট ছোট ছিদ্র বা শ্বাসরন্ধ্র ব্যবহার করে বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বাধীনভাবে চলে বলে মাথা না থাকলেও তাদের শ্বাসকাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। ফলে মস্তিষ্কহীন অবস্থাতেও তাদের শরীর সচল থাকে।

 

তবে মাথা ছাড়া বেঁচে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তেলাপোকাটি মারা যায়। এর মূল কারণ কোনো আঘাত বা শ্বাসকষ্ট নয়, বরং অনাহার এবং পানিশূন্যতা। মুখ দিয়েই যেহেতু এরা খাবার ও পানি গ্রহণ করে, তাই মাথা না থাকায় এরা পানি পান করতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে শরীর পানিশূন্য হয়ে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্টিফিক আমেরিকান' এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

ডিবিসি/এনএসএফ

আরও পড়ুন