যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে রাজধানী তেহরানের নিরাপত্তায় এবং চেকপয়েন্ট পাহারার জন্য ১২ বছর বয়সী শিশুদেরও নিয়োগ দিচ্ছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান জুড়ে অসংখ্য চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এসব চেকপয়েন্টের কয়েকটিতে সাধারণ পোশাকে কিশোরদের মেশিনগান হাতে পাহারা দিতে দেখা গেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীতে লোকবল বাড়াতে ইরানের কর্তৃপক্ষ ‘ফর ইরান’ শীর্ষক একটি নিয়োগ কর্মসূচি শুরু করেছে, যেখানে নিয়োগের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ১২ বছর করা হয়েছে। তেহরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর কর্মকর্তা রহিম নাদালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা 'বৈশ্বিক পরাশক্তির' বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আইআরজিসি এবং বাসিজ যুব স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়াদের সহায়তা করার জন্য এখন ১২ বছর বয়সীরাও নিবন্ধন করতে পারবে।
তিনি জানান, এ শিশুদের মূল কাজ হবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা, অপারেশনাল টহল দেওয়া এবং রাতে শহরে গাড়ির বহর বা ক্যারাভানের আয়োজন করা। নাদালি বলেন, শহর জুড়ে বাসিজ চেকপয়েন্ট এবং টহলগুলোতে অংশ নিতে তরুণ ও কিশোরদের প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে। ১২-১৩ বছর বয়সী শিশুদের এ বিপুল আগ্রহের কারণেই মূলত নিয়োগের ন্যূনতম বয়স কমানো হয়েছে।
এদিকে, শহরে অস্ত্রধারী কিশোরদের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন তেহরানের বাসিন্দারা। কাভেহ নামের একজন জানান, সামরিক পিকআপ ভ্যানগুলো ভারী অস্ত্র নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি তল্লাশি করছে এবং সেখান থেকে কিছুটা দূরেই সাধারণ পোশাকে উজি সাব-মেশিনগান হাতে কিশোররাও বিভিন্ন চেকপয়েন্টে গাড়ি থামাচ্ছে। কোথাও কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সাথে সাথে সেই এলাকা অবরুদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে এবং হাতে কালাশনিকভ রাইফেল নিয়ে অপ্রশিক্ষিত কিশোররা সাধারণ মানুষকে নানা নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ফাঁকা গুলি ছুঁড়ছে।
তেহরানের অপর এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাতে সরকার সমর্থকরা স্পিকার লাগানো গাড়িতে করে পতাকা হাতে রাস্তায় বের হয় এবং তুমুল শব্দ করে স্লোগান দিয়ে মহড়া দেয়।
তথ্যসূত্র: আল আরাবিয়া
ডিবিসি/এএমটি