দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে তার মরদেহ রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ইতিমধ্যেই তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলো জুড়ে পুলিশি ব্যারিকেড, তোরণ, পোস্টার এবং সেনাবহরের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩৬ বছর ধরে ইরান শাসন করা এই প্রভাবশালী নেতা নিহত হন। তার এই বিদায়ী অনুষ্ঠানকে ব্যক্তিগত শোকের চেয়েও বড় করে-ইরানের জাতীয় শক্তি, প্রতিরোধ ও সামাজিক সংহতির এক মহাকাব্যিক প্রদর্শনী হিসেবে দেখছে তেহরান।
শনিবার তেহরানে শুরু হয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পবিত্র শহর মাশহাদে খামেনির দাফনের মাধ্যমে এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ইরানের প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও এই অনুষ্ঠানের প্রধান সংগঠক মোহাম্মদ রেজা আরিফ এটিকে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় জনসমাগম হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই বিশাল আয়োজনের পেছনে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি একটি গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ইরাকি রাজনীতিকদের অনুরোধে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শিয়া নগরী কারবালা এবং নাজাফেও নিয়ে যাওয়া হবে, যা মূলত পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে শিয়া মুসলিমদের ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা বহন করে।
ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রধান পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় বলেন, আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে এবং বিশ্বকে জানাতে হবে যে, ইরান নিপীড়ন ও ঔদ্ধত্যের মুখে কখনো নীরব থাকবে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এসএফএল