ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’-এ ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর এই হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
হামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে হোসেন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, এই হামলা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি কিছু ছবিও প্রকাশ করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রাচীন এই গবেষণা কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর কিছু অংশ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কেরমানপুর জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক পাস্তুর নেটওয়ার্কের সদস্য এই ইনস্টিটিউটের ওপর চালানো এই আগ্রাসন জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারাও এই ঘটনাকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইতিপূর্বে এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে কিছু দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের রপ্তানি-নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ তালিকায় এর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে বর্তমান হামলার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় চিকিৎসা গবেষণা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য অঙ্গনে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/টিবিএ