ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাজধানী তেহরানে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৩ হাজার আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেহরান সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র আব্দুল মোতাহহার মোহাম্মদখানি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদখানি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরানের বিশাল সংখ্যক ঘরবাড়ি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ হাজার ইউনিটের সবগুলোরই কমবেশি মেরামতের প্রয়োজন। এর মধ্যে জানালার কাঁচ বা দরজা ভাঙার মতো সামান্য ক্ষতি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করতে হবে-এমন ঘরবাড়িও রয়েছে।
পুনর্গঠন কাজ শুরু পৌর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ইতিমধ্যে ৪ হাজারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সহায়তায় বাড়ির মালিকরা নিজ উদ্যোগে অথবা সরাসরি পৌর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এই পুনর্গঠন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
বাস্তুচ্যুতদের অবস্থা মুখপাত্র জানান, যুদ্ধের প্রভাবে মোট ১ হাজার ৮৬৯টি পরিবার জরুরি আবাসন সহায়তার আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ২৪৫টি পরিবারের প্রায় ৪ হাজার ২০০ জন মানুষকে বর্তমানে শহরের ২৩টি আবাসিক সেন্টারে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা অন্য শহরে চলে গেছেন। এরই মধ্যে মেরামত কাজ শেষ হওয়ায় প্রায় ১৪০টি পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর ইরানজুড়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে আসছে, যাতে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও অধিকৃত ভূখণ্ড এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল