আন্তর্জাতিক, আরব

তেহরান ও কোমে জানাজা শেষে মাশহাদে সমাহিত হবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির মরদেহ তেহরান, কোম এবং মাশহাদে দফায় দফায় জানাজা ও শোকমিছিল শেষে মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে সমাহিত করা হবে। গত মঙ্গলবার (২ জুন) দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তেহরান পৌরসভার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ জানিয়েছেন, কেবল রাজধানী তেহরানেই ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন (দেড় থেকে দুই কোটি) মানুষের সমাগম মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


তাভাকোলিজাদেহ বলেন, আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নেতা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কমান্ডার এবং ইসলামি বিপ্লবের রাহবারের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে যাচ্ছি।


তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে জানাজা ও শোকমিছিল আয়োজনের অনুরোধ আসছে। এই অনুষ্ঠানটি সম্ভবত জিলহজ মাসের শেষ এবং মহররম মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে। কেবল তেহরানেই জানাজা ও বিদায়ি আনুষ্ঠানিকতা অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মাশহাদ শহরে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত করার এই অনুষ্ঠানে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ ও কাশ্মীরসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শোকগ্রস্ত মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তাভাকোলিজাদেহ বলেন, এটি শিয়া মুসলিমদের তো বটেই, এমনকি সামগ্রিকভাবে গোটা মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এক জমায়েতে পরিণত হবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ইরাকের বিচার বিভাগীয় প্রধান জানিয়েছেন- সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের পর প্রথম ৪০ দিন ইরাকে কোনো শিয়া সম্প্রদায়ের বিয়ে নিবন্ধিত হয়নি। এছাড়া ইরাকের বিভিন্ন শহরে ইতিমধ্যেই তার স্মরণে প্রতীকী জানাজা ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


ইরানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, হযরত আবদুল আজিম হাসানি মাজারে সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশাল জনসমাবেশ ঘটে। একই ধরনের শোকাবহ দৃশ্য দেখা গেছে কাশ্মীর, পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান এবং ইয়েমেনেও।


উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক ও উসকানিমূলক সামরিক আগ্রাসনের প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি শহীদ হন। ওই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং মিনাব শহরের স্কুলশিক্ষার্থীসহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।


এই হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪'-এর আওতায় ১০০টি তরঙ্গে প্রতিশোধমূলক পাল্টা আঘাত হানে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিলের শুরুতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এখনও অব্যাহত রয়েছে।


সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন