আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ডের চিড়িয়াখানায় ভাইরাসে ৭২ বাঘের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং মাই প্রদেশে একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসের প্রাদুর্ভোবে গত এক মাসে অন্তত ৭২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন দেশটির বন্যপ্রাণী ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে এবং জীবিত বাঘগুলোকে দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।


বাঘগুলোর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। চিয়াং মাইয়ের আঞ্চলিক প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাঘগুলো মূলত 'ক্যানাইন ডিস্টেম্পার' ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে 'মাইকোপ্লাজমা' ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়।


তবে থাইল্যান্ডের কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিচালক সোমচুয়ান রতনমুঙ্কলানন জানান, বাঘগুলো আসলে 'ফেলাইন প্যানলিউকোপেনিয়া' ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। তিনি বলেন, "বাঘের চিকিৎসা গৃহপালিত কুকুর বা বিড়ালের মতো নয়। বন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ ধরা পড়তেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়, ফলে চিকিৎসা শুরু করার আগেই রোগটি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।"


গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চিয়াং মাইয়ের মে রিম এবং মে টেং জেলায় বাঘগুলোর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এর ফলে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র 'টাইগার কিংডম চিয়াং মাই' সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই চিড়িয়াখানাটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল, কারণ এখানে বাঘের সাথে ছবি তোলা ও স্পর্শ করার সুযোগ দেওয়া হতো।


বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের পরিচালক কৃতসায়ার্ম কংসত্রী এই মৃত্যুহারকে 'অস্বাভাবিক' বলে অভিহিত করেছেন।


বাঘের এমন গণমৃত্যু থাইল্যান্ড ও এশিয়ার জন্য নতুন নয়, ২০২৪ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৭টি বাঘ ও ৩টি চিতাবাঘ মারা যায়। ২০০৪ সালে থাইল্যান্ডের শ্রীরাচা টাইগার জু-তে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে ১৪৭টি বাঘ মারা গিয়েছিল। সে সময় কাঁচা মুরগির মাংস খাওয়ানোর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।


বর্তমানে চিয়াং মাইয়ের এই প্রাদুর্ভাব যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন