আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ডে স্কুলে কিশোরের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৭, গুলিবিদ্ধ ২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের নির্বিচার গুলিবর্ষণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগে ওই কিশোর নিজের বাড়িতে তার দাদা ও দাদিকেও গুলি করে হত্যা করে। গোলাগুলির একপর্যায়ে নিজের বন্দুকের গুলিতে ওই কিশোরও আত্মহত্যা করে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত চার বছরের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে এটি সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী নির্বিচার হত্যার ঘটনা।

 

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত দেবসিরিন নোনথাবুরি স্কুলে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। স্কুলে নিহত পাঁচজনই সেখানকার শিক্ষক ও কর্মী। হামলাকারী কিশোর তার দাদার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অন্তত ২৬টি গুলি ছুড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আরও ৩৪টি অবিস্ফোরিত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

এই গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর।

 

গোলাগুলির সময় স্কুলজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে ভবন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। আতঙ্কিত শিক্ষকরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে গুলির শব্দ শুনে তিনি ভেবেছিলেন কেউ হয়তো আতশবাজি পোড়াচ্ছে বা কোনো কিছু ভাঙচুর করছে। তিনি বলেন, প্রথমে আমি ভাবতেই পারিনি ওটা বন্দুক ছিল। অনেকগুলো গুলির শব্দ হলো। তারপর সব শান্ত হয়ে গেল এবং কিছুক্ষণ পর আবারও গুলি শুরু হলো।

 

কিয়াতিখুন ভেরাপংপ্রাদিথ নামের ৪৭ বছর বয়সী এক জরুরি উদ্ধারকর্মী জানান, তারা যখন স্কুলে পৌঁছান তখনো গোলাগুলি চলছিল। তারা বুকে, পিঠে ও হাতে গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। দোতলায় একজন শিক্ষককে মৃত অবস্থায় এবং অন্য একটি কক্ষে আরেক নারী শিক্ষককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তারা। শেষ গুলির শব্দ শোনার পর উদ্ধারকর্মীরা হামলাকারী কিশোরকে মাথার ডান দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

 

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এই মর্মান্তিক ঘটনাকে 'ভয়াবহ' আখ্যা দিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর তিনি জানান, হামলাকারী কিশোর পড়াশোনার প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগছিল। সে তার দাদা-দাদির সঙ্গেই বসবাস করত।

 

ঘটনার পর পুলিশ ওই কিশোরের বাড়িতে তদন্তে গেলে বয়স্ক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত দেশে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন ও কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দেবসিরিন নোনথাবুরি স্কুলে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন। চলতি বছর থাইল্যান্ডে এটি দ্বিতীয় স্কুলে গোলাগুলির ঘটনা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এমন ঘটনায় এক শিক্ষক নিহত ও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন