দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় ‘ডেভন বে’ নামক একটি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত দুইজন নাবিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং চারজন নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
জাহাজটিতে মোট ২১ জন ফিলিপিনো নাবিক অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চীন ও ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সত্যতা এবং হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় জানা যায়, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ইয়াংজিয়াং বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে স্কারবরো শোলের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পৌঁছালে জাহাজটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরবর্তীতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোররাতে জাহাজটি উল্টে গিয়ে সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি জাহাজটি ডুবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জাহাজের মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতায় চীন ও ফিলিপাইন উভয় দেশই দ্রুত সাড়া দিয়েছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চীনা কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ প্রেরণ করে। চীনের সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, চীনা উদ্ধারকারীরা সমুদ্র থেকে মোট ১৭ জন ফিলিপিনো নাবিককে উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে ১৪ জনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তারা নিজেদের নাবিকদের উদ্ধারে দুটি জাহাজ এবং দুটি বিমান দুর্ঘটনাস্থলে মোতায়েন করেছে।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনাস্থলটি অর্থাৎ স্কারবরো শোল এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এই জলসীমার সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দেয়। ২০১২ সালে এক অচলাবস্থার পর চীন এই এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেখানে নিয়মিত কোস্টগার্ড ও মাছ ধরার জাহাজ মোতায়েন রাখে।
২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দাবিকৃত মালিকানাকে অবৈধ ঘোষণা করলেও বেইজিং সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মানবিক বিপর্যয় হিসেবে এই জাহাজ ডুবির ঘটনাটি ঘটল।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এএমটি