লালমনিরহাট থেকে লক্ষ্মীপুরে যাত্রীবাহী বাসের নিচের বক্সে গাদাগাদি করে আনার পথে দম বন্ধ হয়ে ৪৫টি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণীর প্রতি এ নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে বাসের সুপারভাইজার ও ছাগলের মালিককে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এ দণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- লালমনিরহাট জেলার সাপটানা এলাকার বাস সুপারভাইজার মো. আবুল হাসেম এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. ফারুক।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লালমনিরহাট থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে করে মোট ৪৫টি ছাগল লক্ষ্মীপুরে আনা হচ্ছিল। এর মধ্যে ব্যবসায়ী ফারুকের ২১টি, সফিকের ১৬টি এবং নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগল ছিল। অধিক লাভের আশায় ছাগলগুলোকে বাসের মালামাল রাখার বক্সে গাদাগাদি করে রাখা হয়।
দীর্ঘ পথযাত্রা, তীব্র গরম এবং বদ্ধ বক্সে পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় সবগুলো ছাগল দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফারুক দাবি করেছেন, এ ঘটনায় তার প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার সকালে বাসটি গন্তব্যে পৌঁছালে ছাগলগুলোর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়। এ নিয়ে বাসের স্টাফ ও মালিকপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ খবর পেয়ে উভয় পক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা জানান, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ প্রতিরোধ আইনে বাস সুপারভাইজার ও মালিক উভয়কে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় মৃত ছাগলগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিবিসি/এএমটি