আন্তর্জাতিক, ভারত

দলের চেয়ারম্যারন পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হল মমতাকে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটল। যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের প্রধান মুখ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই দলের শীর্ষ পদ থেকেই এবার তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়।

সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউটাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত দলের এক বিশেষ বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠকের শুরুতেই দলের সাংগঠনিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ২০২২ সালের পর তা আর গঠন করা হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণেই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এরপরই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দ্রুত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং পরে ধ্বনি ভোটে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

অরূপ রায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন রাজ্য নেতৃত্বের নামও ঘোষণা করা হয়। দলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামান আনসারিকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অতীতের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য অবিলম্বে নিরীক্ষক নিয়োগের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

 

তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে এত বড় পরিবর্তন এবারই প্রথম। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর দলের ভেতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই বৈঠক তারই প্রকাশ্য রূপ। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী শিবির স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা পুরনো নেতৃত্বের ছায়া থেকে বেরিয়ে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়তে চায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতদের কাছে এটি একটি বড় ধাক্কা হলেও, নতুন এই নেতৃত্বের অধীনে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের কতটা পুনর্গঠিত করতে পারে এবং আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন