গাজায় চলমান ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকার মধ্যেই উপত্যকাটিতে দেখা দিয়েছে নতুন এক মানবিক সংকট। অঞ্চলটিতে নিহতদের দাফন করার মতো পর্যাপ্ত জায়গার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর ও ভবনের নিচ থেকে প্রতিদিন নিখোঁজ বা নিহতদের নিথর দেহ উদ্ধার করছেন সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকর্মীরা। সংঘাতের ভয়াবহতায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় লাশের সারি ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে।
উপত্যকার বিদ্যমান সাধারণ ও পারিবারিক কবরস্থানগুলো ইতোমধ্যেই পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের বিপর্যয়ের কারণে নতুন করে কাউকে সমাহিত করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো স্থান আর অবশিষ্ট নেই।
জায়গার চরম সংকটের মুখে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে খোলা মাঠ, পার্ক, কৃষিজমি কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের আঙিনায় মরদেহ দাফন করছেন। বহু এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় রূপ নিয়েছে যে গণকবর তৈরি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।
পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের ধর্মীয় রীতি মেনে যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। চরম মানসিক যন্ত্রণা ও শোকের মাঝেও তাদের কেবল একটি নিরাপদ সমাহিত করার জায়গার জন্য ছুটতে হচ্ছে।
মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং দাফনের স্থানের অভাবে পুরো অঞ্চলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই তীব্র সংকট গাজার বেসামরিক মানুষদের জীবনের পাশাপাশি মৃত্যুর স্বাভাবিক নিয়মনীতি ও অধিকারকেও সংকুচিত করে ফেলেছে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন