দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সিংড়া জাতীয় উদ্যানে শকুন রক্ষায় গড়ে তোলা হয়েছে শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র। এখানে অবমুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ১৯টি শকুন।
বন বিভাগের উদ্যোগে ২০১৬ সালে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের সিংড়া জাতীয় উদ্যানে গড়ে তোলা হয় শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র। তখন থেকেই রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরা পড়া ও অসুস্থ শকুন উদ্ধার করে এখানে আনা হয়। পরিচর্যায় উড়তে সক্ষম হলে পায়ে জিপিএস ট্যাগ লাগিয়ে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়। এই শকুন দেখতে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রতিদিনই সিংড়া জাতীয় উদ্যানে ছুটে আসছে।
শকুন প্রায় বিলুপ্তির পথে জানিয়ে দর্শনার্থীরা বলেন, আসলে সচরাচর কোথাও শকুন দেখা যায় না। এখানে এসে শকুনের দেখা পাওয়া যায়।
উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ধরাপড়া শকুন উদ্ধার করে এখানে আনার পর পরিচর্যা করে প্রতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে অবমুক্ত করা হয়। প্রতি বছর শীত মৌসুমে হিমালয় পাদদেশসহ এর আশপাশ থেকে এই শকুনগুলো আসে। খাদ্যাভাবসহ নানা করণে অসুস্থ হয়ে গেলে পাখিদের উদ্ধার করে এখানে আনা হয় বলে জানায় বন বিভাগ।
সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশির-উল-মামুন বলেন, মূলত খাদ্যের অভাব এবং আরও বেশ কিছু কারণে এটি মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং লালন পালন শেষে এটি উপযুক্ত সময়ে বিশেষ করে মার্চ মাসের শেষে বা এপ্রিলের শুরুর দিকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়।
পরিবেশ বান্ধব ও প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত বিলুপ্ত প্রায় এই শকুন রক্ষায় সরকার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।