বিশাল ভৌগোলিক দূরত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলতি বিশ্বকাপের বাকি দিনগুলোতে প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তির অংশ হিসেবে কাতার এয়ারওয়েজের পক্ষ থেকে ইনফান্তিনোকে একটি ব্যক্তিগত জেট দেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোজুড়ে ভ্রমণের জন্য এই জেটটিই এখন ইনফান্তিনোর মূল ভরসা।
গত বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকার পরপরই ইনফান্তিনো উড়ে যান গুয়াদালাহারায়, দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেকিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র) ম্যাচটি দেখতে। এর পরের দিন তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচ (৪-১) উপভোগ করেন। এরপর শনিবার যথাক্রমে সান ফ্রান্সিসকোতে কাতার-সুইজারল্যান্ড এবং ভ্যাঙ্কুভারে অস্ট্রেলিয়া-তুরস্কের ম্যাচ দুটি মাঠে বসে দেখেন তিনি।
অবশ্য রবিবার তিনি কোনো ম্যাচ দেখতে পারেননি। ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত একটি সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি মায়ামিতে ছিলেন। সম্মেলন শেষ করে ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি আবার লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে আসেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের প্রথম ম্যাচটি দেখার জন্য।
ফিফার অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমন হাড়ভাঙা খাটুনির সূচি সত্ত্বেও ইনফান্তিনো যথাসম্ভব প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ দেখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যকার সর্বোচ্চ দূরত্ব মাত্র ৪৬ মাইল হওয়ায় ৫৬ বছর বয়সী এই সভাপতি প্রায় সবকটি (৬৪টি) ম্যাচই মাঠে বসে দেখতে পেরেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিশ্বকাপটি চারটি মহাদেশীয় সময় অঞ্চল এবং তিনটি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ১৬টি স্টেডিয়ামের একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব সর্বোচ্চ ২,৮০০ মাইল পর্যন্ত।
স্বাভাবিকভাবেই, এই টুর্নামেন্টের সাথে জড়িত অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে ইনফান্তিনোকে বহুগুণ বেশি পথ ভ্রমণ করতে হবে। দলগুলোর মধ্যে গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে কঠিন সূচির মুখোমুখি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। টরন্টো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস হয়ে সিয়াটল পর্যন্ত তাদের মোট ৩,১৪৪ মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। এর পাশাপাশি ম্যাচের অন্তর্বর্তী সময়ে সল্টলেক সিটিতে নিজেদের অনুশীলন ক্যাম্পে ফেরার ভ্রমণ তো রয়েছেই।
বিশাল এই দূরত্বের কারণে পরিবেশবাদী সংস্থা নিউ ওয়েদার ইনস্টিটিউট এবারের বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে দূষণকারী ইভেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের অনুমান, এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ (৯ মিলিয়ন) টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আনুমানিক কার্বন নির্গমনের মধ্যে প্রায় ৭৭ লক্ষ টনই আসবে বিমান ভ্রমণ থেকে। এটি ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপগুলোর গড় বিমান ভ্রমণজনিত কার্বন নির্গমনের চেয়ে চার গুণেরও বেশি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এসএফএল