পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। দিল্লিতে পৌঁছালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা তাঁকে স্বাগত জানান। ‘শুভেচ্ছা সফরের’ প্রথম দিনে তিনি সন্ধ্যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তাঁরা এক নৈশভোজে যোগ দেন।
ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে বুধবার দুপুরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঘণ্টাখানেকের আলোচনার মধ্যে কিছু সময় একান্তে কথা বলবেন। এছাড়া বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ বলা হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘সরকারি সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসূচি প্রকাশ করেছে। এতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সফরের প্রথম দিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার আলোচনার প্রসঙ্গটি এতে ঊহ্য রাখা হয়েছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাসে অনুষ্ঠেয় ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন এবং পথিমধ্যে দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করবেন। তিনি জানান, এসব বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহকে ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিবিসি/আরএসএল