দীর্ঘ প্রায় দুই বছর শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে বাধার পর অবশেষে গাজায় হাজার হাজার রিক্রিয়েশনাল ও স্কুল কিট প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার এই ঘটনাকে একটি সম্ভাব্য 'টার্নিং পয়েন্ট' বা মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এল্ডার জানান, গত কয়েক দিনে হাজার হাজার রিক্রিয়েশনাল কিট এবং শত শত 'স্কুল-ইন-এ-কার্টন' কিট গাজায় প্রবেশ করেছে। ইউনিসেফ ইতিমধ্যে ৪,৪০০-এর বেশি রিক্রিয়েশনাল কিট এবং ২৪০টি স্কুল-ইন-এ-কার্টন কিট সরবরাহ করেছে। এই সপ্তাহের শেষের দিকে অনুমোদিত আরও ২,৮৭৫টি রিক্রিয়েশনাল কিট, প্রায় ২,৫০০টি স্কুল-ইন-এ-কার্টন কিট এবং ১,০০০-এর বেশি আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট কিট পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে মোট সরবরাজকৃত কিটের সংখ্যা ১১,০০০ ছাড়িয়ে যাবে। এ ছাড়া, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও প্রায় ৭,০০০ কিট পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
'স্কুল-ইন-এ-কার্টন' কিটগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাসরুমের কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এতে লেখার উপকরণ, খাতা, স্লেট, ঘড়ি, গ্লোব এবং ক্লাসরুম রক্ষণাবেক্ষণের সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকার ৭ লাখের বেশি স্কুলগামী শিশু আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি গাজা জুড়ে ১১০টিরও বেশি শিক্ষাকেন্দ্রে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪০০ শিশুকে সহায়তা প্রদান করছে। 'ব্যাক টু লার্নিং'-এর প্রথম ধাপে ইউনিসেফ ও তার সহযোগীরা ২০২৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪০০ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৩৬ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। যদিও উপত্যকার ৯০ শতাংশ স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬০ শতাংশ শিশুর বর্তমানে সশরীরে শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই, তবুও ২০২৭ সালের মধ্যে সকল শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ সম্পর্কে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপটি কোনো রাজনৈতিক মাইলফলক নয়; এটি একটি মানবিক প্রয়োজনীয়তা।’ তিনি জানান, স্থায়ী আশ্রয়ের অভাবে তীব্র ঠান্ডায় (হাইপোথার্মিয়া) অন্তত ১০টি শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যা উন্নত আশ্রয় ব্যবস্থা থাকলে এড়ানো যেত।
রাফাহ ক্রসিং সম্পর্কে মুখপাত্র জানান, পরিবারগুলোর মধ্যে চরম হাহাকার সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো যাতায়াত শুরু হয়নি। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী রবিবার জানিয়েছিলেন যে, গাজা থেকে সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার পর রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে, যা সোমবার সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির বর্তমান দ্বিতীয় ধাপে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলের নিরস্ত্রীকরণ, অতিরিক্ত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ৭১,৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু, এবং আহত হয়েছেন ১,৭১,৩০০-এর বেশি মানুষ। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৩২১ জন আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ডিবিসি/এনএসএফ