সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙর করা একটি কুয়েতি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে ইরানি বাহিনী "সরাসরি হামলা" চালিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
দুবাই সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আমিরাতের জলসীমায় একটি ড্রোন হামলা এবং কুয়েতি তেলের ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনায় দুবাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। ট্যাংকারে থাকা ২৪ জন ক্রু সদস্যের সবাই নিরাপদে আছেন এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সামুদ্রিক অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'আল-সালমি' নামক ওই ট্যাংকারটি হামলার সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। তারা এটিকে ইরানি হামলা বলে উল্লেখ করেছে। কোম্পানিটি জানায়, হামলায় জাহাজের বাইরের অংশ (হাল) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই ক্ষয়ক্ষতির কারণে আশেপাশের সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আগুন নেভাতে এবং যেকোনো সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি 'ট্যাংকার ট্র্যাকার্স' তাদের ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল—যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল সৌদি আরবের এবং ৮ লাখ ব্যারেল কুয়েতের। কোম্পানিটি আরও জানায়, "এক মাস আগেই জাহাজটিতে তেল বোঝাই করার কাজ শেষ হয়েছিল।"
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই তা জানানো হবে। অন্যদিকে, এই হামলার ব্যাপারে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আমিরাতের জলসীমায় ট্যাংকারে হামলার খবর যখন সামনে আসছে, ঠিক তখনই কুয়েতি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারাও শত্রুপক্ষের মিসাইল ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস