গুরুতর অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাক্তন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।
বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলার তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের সরকারি খাসজমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি সৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত ওই পদবি ব্যবহার করে প্রায় ২৫৮ দশমিক ২৬ একর সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দিয়েছেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় সৃষ্টি করে অবমুক্ত করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়। রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ও দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগও ধরা পড়ে তদন্তে।
তদন্তে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উঠে আসে, অভিযুক্তের অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে, যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ ধরনের কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা সমীচীন নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি সম্পত্তি জরুরি ভিত্তিতে সরকারের আয়ত্তে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিবিসি/ এসভিএন