বাংলাদেশ, জাতীয়

দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে, তখনও তার হাঁটতে শিখতে ১৮ মাসের মতো সময় লাগে। আপনাদের নির্বাচিত সরকারের বর্তমান বয়স হলো মাত ছয় মাস। এই সময়ে আমরা কিভাবে আপনাদের উন্নয়নে কাজ করছি আপনারা দেখেছেন।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়।

 

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় আমরা দেখেছি সামগ্রিকভাবে পুরো বাংলাদেশের কী অবস্থা হয়েছিল। আমরা দেখেছি কিভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংশ করে দেওয়া হয়। কিভাবে মেগা প্রজেক্টগুলো নিজেদের লোক দিয়ে চার-পাঁচগুণ বেশি টাকা দিয়ে দেশের অর্থ বিদেশের পাচার করে দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরেকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছিল। সে সময় মানুষক বাধ্য করা হয়েছিল সেই দেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে।

 

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সরকার কিভাবে দেশের শিক্ষাখাতকে ধ্বংশ করেছিল আমরা তা দেখেছি। কৃষি ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছিল। মানুষের কথা বলার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ সবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ ফুঁসে ওঠে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষ সেই সরকারের পতন ঘটিয়েছে। এরপর দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের সরকার গঠন করেছে।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। এই ৩১ দফার মধ্যে আমরা বলেছি, নির্বাচিত হলে কিভাবে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, কিভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ও প্রশক্ষিণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে কথা বলেছি, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে তাদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই সেই মাঠ, নির্বাচনের পর এই মাঠেই আমরা আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। আমরা মা-বোনদের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ড এর মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি। আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়িয়েছি তাদের কৃষক কার্ড দিয়ে ও ১০ হাজার টাকা লোন মওকুফ করে। সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। দেশের ১৩ লাখ কৃষককে কৃষি লোন সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। অথচ পাশের দেশ কিভাবে বাঁধ তৈরি করে পানির সমস্যা সৃষ্টি করেছে। এর সমাধানে আমরা শহীদ জিয়ার খাল খননের কর্মসূচি আবার শুরু করতে চেয়েছিলাম নির্বাচনে জেতার পর। আমরা সরকার গঠনের পর একমাসের মধ্যে যেমন ফ্যামিলি কার্ড করেছি, তেমনি খাল খনন কর্মসূচির শুরু করেছি। এই ছয় মাসে আমরা নয়শো কিলোমিটারের মতো খাল খনন করেছি যার মাধ্যমে দেশের অনেক উপজেলার মানুষ যেমন পানির সুবিধা পাচ্ছে। কৃষকরা পাচ্ছে সেঁচের সুবিধা।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ৭১ সালে স্বাধীন হয়েছে। গণতন্ত্র বার বার হোঁচট খেয়েছে। সব সময় আমরা বেলেছি গণতন্ত্রের কার্যক্রম দেশে চালু রাখতে পারলে জবাবদিহিতা থাকবে।

 

জবাবদিহিতা থাকলে দেশের মানুষের জন্য ভালো কাজ করা সম্ভব হবে। কারণ জবাবদিহিতার কারণে সরকার সেই সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যেগুলোতে মানুষের ওপর হয়, দেশের উপকার হয়।

 

ডিবিসি/ এইচএপি

আরও পড়ুন