বিবিধ

দেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু করল এসকেএফ ও নভো নরডিস্ক

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ডেনমার্কের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ (পেনফিল) উৎপাদন শুরু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং বহুজাতিক কোম্পানি নভো নরডিস্ক বাংলাদেশ। এই উদ্যোগের ফলে দেশের ডায়াবেটিস রোগীরা এখন থেকে আরও সহজে ও তুলনামূলক কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ইনসুলিন পাবেন।

সম্প্রতি “সাবাশ বাংলাদেশ: ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে চুক্তির ভিত্তিতে এই স্থানীয় উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতোদিন বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নভো নরডিস্ক তাদের নভোমিক্স ও নভোর‌্যাপিডের মতো আধুনিক ইনসুলিনগুলো ডেনমার্ক থেকে আমদানি করে আসছিল। নতুন এই চুক্তির আওতায় এখন ডেনমার্কের একই প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এসকেএফ-এর কারখানায় এসব ইনসুলিন কার্ট্রিজ তৈরি হবে। তবে গুণগত মান নিশ্চিতে দেশে উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচের মান ডেনমার্কেই যাচাই করা হবে।

 

দেশে উৎপাদন শুরু হওয়ার সুবাদে আধুনিক ইনসুলিনের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। নভো নরডিস্ক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং এর অংশ হিসেবে গুণগত মানের সাথে কোনো আপস না করেই নভোমিক্স ও নভোর‍্যাপিড ইনসুলিনের দাম ১৮ শতাংশ কমানো হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সুলভে মানসম্মত ইনসুলিন প্রাপ্তি রোগীদের জন্য বড় একটি সুখবর।

 

এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে এবং উন্নত বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দারও ইনসুলিনের মতো জটিল বায়োলজিক ওষুধের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মান বজায় রেখে জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজন মেটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার মনে করেন, ডেনিশ উদ্ভাবনের এই প্রযুক্তি হস্তান্তর বাংলাদেশের বায়োম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে।

 

এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে নভো নরডিস্কের প্রথম আধুনিক পেনফিল ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু হওয়াকে একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান। তিনি বলেন, এই অর্জন প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ উচ্চমানের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ডেনমার্কভিত্তিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করে আসছে। অন্যদিকে ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১৯৯০ সাল থেকে দেশে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আসছে। দুই প্রতিষ্ঠানের এই যৌথ উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন