বাংলাদেশ, জাতীয়, শিক্ষা

দেশে সাক্ষরতার হারে এগিয়ে পুরুষ, পিছিয়ে নারী

ডেস্ক ‍নিউজ

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৬:০৪ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২২ ভাগের বেশি মানুষ এখনও নিরক্ষর, সংখ্যায় যা প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি, যা দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সমান। এই বিপুল সংখ্যক নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে দেশের জন্য বড় বোঝা হিসেবে উল্লেখ করে পরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিত্রাণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

জামালপুরের ফরিদ উদ্দিন বা দিনাজপুরের আনিসুর রহমানের মতো দেশের লাখ লাখ মানুষ কখনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি, এমনকি নিজের নামটুকুও লিখতে শেখেননি।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৭৬.৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৭৪.৬৬ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকায় সাক্ষরতার হার সর্বোচ্চ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন। লিঙ্গভিত্তিক হিসাবে পুরুষদের সাক্ষরতার হার ৮০.১ শতাংশ, যা নারীদের (৭৫.৮ শতাংশ) চেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় সাক্ষরতার হারে ভারত থেকে এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই পরিসংখ্যানকে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছেন না। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী সাক্ষরতার হিসাব করলে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নিরক্ষর। শিক্ষা গবেষকরাও সরকারের সঠিক পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের মতে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বিপুল সংখ্যক নিরক্ষর মানুষ দেশের বোঝায় পরিণত হয়েছে।

 

বাংলাদেশে সাক্ষরতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা হলেও এর বাইরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সকল শিশুকে কাঠামোগত শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব না হলে এই পরিস্থিতির উন্নতি বেশ কঠিন হবে।

 

ডিবিসি/ এইচএপি

আরও পড়ুন