রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাসটি বর্তমানে নদীর অন্তত ৬০ ফুট গভীরে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসের ভেতরে আরও বহু যাত্রী আটকা পড়ে থাকার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকামুখী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষমান ছিল। বিকেলে আকস্মিকভাবে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি নদীতে পড়ে যায় এবং দ্রুত তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে নামে গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি বিশেষ ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহায়তায় পানির নিচে শনাক্ত হওয়া বাসটিকে উপরে তোলার চেষ্টা চলছে।
বাসের বেঁচে ফেরা আরোহী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি নদীতে পড়ার সাথে সাথে জানালা দিয়ে ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী বের হতে সক্ষম হন। তবে বাকি যাত্রীরা বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন। পানির তীব্র স্রোত ও গভীরতা বেশি হওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, "পানির নিচে বাসটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এটি নদীপৃষ্ঠ থেকে ৩০ ফুট গভীরে রয়েছে। ডুবুরিরা নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। নিহতের সঠিক সংখ্যা উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।"
ডিবিসি/ এসএফএল