বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় বাবার হাত থেকে ছুটে পদ্মায় ডুবে যায় শিশু ইসরাফিল

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৩ বছরের শিশু ইসরাফিল হোসেন, যে ডুবন্ত বাসের ভেতরে বাঁচার আকুতি নিয়ে বাবার কোল থেকে ছিটকে তলিয়ে গেছে।

ঈদের ছুটি শেষে রাজবাড়ীর পাংশা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী নুরনাহার। দেলোয়ার ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। বাসের পেছনের দ্বিতীয় সারিতে জানালার পাশে বসেছিলেন নুরনাহার, আর স্বামী দেলোয়ারের কোলে ছিল তাদের একমাত্র সন্তান ইসরাফিল। বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে পেছনের যাত্রীরা ছিটকে সামনের দিকে চলে যান। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং তলিয়ে যাওয়ার সময় বাবার হাত থেকে ফসকে যায় ছোট্ট ইসরাফিল।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্তোষপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে একমাত্র সন্তানকে হারানোর শোকে আহাজারি করছিলেন মা নুরনাহার। দুর্ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিতে গিয়ে নুরনাহার জানান, বাস তলিয়ে যাওয়ার সময় ভেতরে সবাই বাঁচার জন্য ঘুরপাক খাচ্ছিল। তিনি কীভাবে বাস থেকে বের হয়ে ভেসে উঠেছেন, তা তার নিজেরও মনে নেই। শুধু কানে ভেসে আসছিল মানুষের বাঁচার চিৎকার। ভেসে ওঠার পর কয়েকজন দড়ির সাহায্যে টেনে তাকে নৌকায় তোলেন, যেখানে তিনি তার স্বামীকে দেখতে পেলেও নাড়িছেঁড়া ধন ইসরাফিলকে আর খুঁজে পাননি।

 

দুর্ঘটনার সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের কথা স্মরণ করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছেলে আমার হাত ধরেই ছিল। বাসে পানি ঢুকে গেলে সবাই ঘুরতে ঘুরতে তলিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে ছেলে আমার হাত থেকে ছিটকে যায়। সে চিৎকার দিয়ে ডাকছিল। এরপর আর কিছু মনে নেই। আমি কীভাবে ভেসে উঠেছি তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমি একটি ছোট নৌকায়, অন্য লোকজন আমাকে টেনে তুলেছে। চোখের সামনে শিশু সন্তানকে হারিয়ে এই দম্পতি এখন পাগলপ্রায়।

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন