অভিষেক টেস্টেই পেসারদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে প্রমাণ দিলো গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনা। নতুন এই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার টেস্টের প্রথম দিনেই পতন ঘটেছে ১৮টি উইকেটের। যার ১৭টিই নিয়েছেন পেসাররা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হলেও পেসার শরিফুল ইসলামের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ম্যাচে দারুণ লড়াই ফিরিয়ে এনেছে টাইগাররা। তবে প্রথম দিন শেষে হাতে ২ উইকেট রেখে ১০১ রানের লিড নিয়ে চালকের আসনেই রয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অজি পেসারদের তোপে মাত্র ৩৪ ওভারে ৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পেসারদের দাপটের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়াও। দিন শেষে ৪০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করেছে তারা। আলোকস্বল্পতা ও সময়ের কারণে দিনের খেলা ১৬ ওভার বাকি থাকতেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
অল্প রানের পুঁজি নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই চেপে ধরেন বাংলাদেশি পেসাররা। দলীয় ২২ রানে ওপেনার ম্যাট রেনশকে (৮) তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। এরপর আক্রমণে এসেই নিজের প্রথম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। দ্বিতীয় বলে ট্রাভিস হেডকে (২২) এবং পঞ্চম বলে মার্নাস লাবুশেনকে (৪) বোল্ড করে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেন তিনি।
চতুর্থ উইকেটে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন ৭৭ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ব্যক্তিগত ৪২ রানে থাকা স্মিথকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে এই জুটি ভাঙেন শরিফুল। এরপর উইকেটে থিতু হতে পারেননি আর কোনো অজি ব্যাটার। অ্যালেক্স ক্যারেকে (৫) মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচে পরিণত করেন একমাত্র স্পিনার হিসেবে উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডার।
পরের গল্পটা শুধুই শরিফুলের। একে একে ফিরিয়ে দেন বিউ ওয়েবস্টার (০), অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স (০) ও মিচেল স্টার্ককে (১)। কামিন্সকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার (পাঁচ উইকেট) নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পতন হওয়া ৮ উইকেটের ৬টিই একাই শিকার করেন এই বাঁহাতি পেসার, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার।
প্রথম দিন শেষে একপ্রান্ত আগলে রেখে ৫১ রানে অপরাজিত আছেন ক্যামেরন গ্রিন এবং তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ১০ রানে অপরাজিত আছেন স্পিনার নাথান লায়ন। অবিচ্ছিন্ন নবম উইকেটে তাদের ১৮ রানের জুটিতে ভর করেই দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া।