প্রাথমিক ধারণার চেয়েও দ্রুত ছড়াতে পারে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সতর্কবার্তার মধ্যেই ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মে) পর্যন্ত দেশটিতে ৫১৩ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় এরই মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. অ্যান অ্যান্সিয়া বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নিউজডে-কে জানিয়েছেন, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশ এই প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থল। অত্যন্ত অরক্ষিত এই এলাকায় মানুষের ব্যাপক চলাচলের কারণে রোগের তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি যত বেশি তদন্ত করছে, রোগটি যে অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে, তা ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সংক্রমণের প্রকৃত মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত লন্ডনভিত্তিক এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের এক মডেলিংয়ে বলা হয়েছে, রোগী শনাক্তের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বাস্তবে এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৪ এপ্রিল প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত সপ্তাহেই এই প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস। মহামারির ব্যাপকতা ও ছড়িয়ে পড়ার গতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সম্প্রতি ইবোলা ভাইরাসের যে স্ট্রেইনটির কারণে সংক্রমণ বাড়ছে, তার কোনো কার্যকর টিকা এখন পর্যন্ত নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বর্তমানে খতিয়ে দেখছে, অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না।
ডিবিসি/এফএইচআর