নওগাঁর সাপাহার থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদের দায়িত্ব হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা। নতুন ওসি থানায় উপস্থিত হলেও বিদায়ী ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় সাময়িকভাবে থমকে গেছে থানার স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের এক আদেশে সাপাহার থানার ওসি মিজানুর রহমানকে জনস্বার্থে জয়পুরহাট জেলায় বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে নতুন ওসি শাহীন রেজা থানায় যোগদান করেন। তবে নতুন ওসি উপস্থিত হওয়া সত্ত্বেও বিদায়ী ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় থানায় প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর ফলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি), দাপ্তরিক কাজ ও বিভিন্ন আইনি সেবা নিতে যাওয়া সেবাপ্রার্থীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোকসেদুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টায় থানায় গিয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ওসির অনুপস্থিতির কারণে কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। এছাড়া পুরাতন মুহুরি পট্টি এলাকার শিক্ষার্থী জারিফ জানান, একটি জিডি করার জন্য তাকে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত থানায় বসে থাকতে হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদায়ী ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে থানায় গেলে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা জানান তিনি নিজ কক্ষে ব্যস্ত রয়েছেন এবং কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিদায়ী ওসি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই গাড়িতে উঠে থানা ত্যাগ করেন।
দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে নতুন ওসি শাহীন রেজা জানান, তিনি আগের দিন থেকেই থানায় অবস্থান করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ বুঝে পাননি এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি নাগরিক সেবা নিরবচ্ছিন্ন করার স্বার্থে এই প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেইসঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
ডিবিসি/আরএসএল