নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম কৃষ্ণ হালদার। পড়া না পারার কারণ দেখিয়ে এবং পূর্বের অভিযোগের জেরে তাকে বেদম মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল (বুধবার) স্কুলের শিক্ষক দীপক কুমার শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করেন। এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। উল্টো প্রধান শিক্ষককে জানানোর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে রানী চক্রবর্তী নামের অপর এক শিক্ষক কৃষ্ণকে ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরে ব্যাপক ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় কৃষ্ণকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ছেলের এমন অবস্থায় চরম উদ্বিগ্ন কৃষ্ণের পরিবার। লোহাগড়া ফয়েস মোড় এলাকার বাসিন্দা ও কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার কারণ দেখিয়ে আমার ছেলেকে দুই শিক্ষক (দীপক ও রানী চক্রবর্তী) বারবার মারধর করেছেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’ কৃষ্ণের মা পল্লবী জানান, মারধরের শিকার হয়ে ছেলের শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে। সে এখন আতঙ্কের মধ্যে আছে এবং স্কুলে যেতেও ভয় পাচ্ছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে মারধরের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, তার নিষেধ করা সত্ত্বেও শিক্ষকরা তাকে মারধর করেছেন। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ডিবিসি/আরএসএল