বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

নড়াইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর এবং অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগে জিসানুর রহমান (৩০) নামের এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাতে ভুক্তভোগী মৎস্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত জিসানুর নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। 

 

মৎস্য অফিসের কর্মচারীদের মতে, জিসানুর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জিসানুর রহমান প্রায়ই মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য দাবি করতেন এবং তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দ করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বিকেলে জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন কার্যালয়ে প্রবেশ করে জেলার সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনীর তালিকা দাবি করেন। 

 

এ সময় মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান তাকে এর আগেও একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানালে জিসানুর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং মৎস্য কর্মকর্তাকে কিল-ঘুষি মেরে নাক, মুখ ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে অফিসের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। 

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় জিসানুর অফিসের টেবিলে থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন এবং মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

তবে মারধরের এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন জিসানুর রহমান। তার ভাষ্যমতে, তিনি উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়ে তথ্য না পেয়ে ফিরে আসছিলেন। এ সময় অফিসের এক কর্মচারী তাকে ভিডিও করার অপবাদ দেন এবং একপর্যায়ে কর্মচারীরা তাকে মেঝেতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জিসানুর বলেন, তিনি কোনো কর্মকর্তাকে মারতে যাননি।

 

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন পেশার মানুষ জানিয়েছেন, অফিসে সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, মৎস্য কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার রাত ৯টার দিকে থানায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন