বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তারকা বনে গেছেন অনেক অপরিচিত ফুটবলার। তাদেরই একজন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ফিফার মেগা আসরে একের পর এক অসাধারণ সেভে নজর কাড়া এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপের আগে ছিলেন ক্লাবহীন। টুর্নামেন্ট শেষে পেয়েছেন নতুন ক্লাব। দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতা পেরিয়ে এবার নতুন জার্সিতে অভিষেকও হয়ে গেল তার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোর হয়ে প্রথমবার মাঠে নামেন ভোজিনহা। কোপা চিলির ম্যাচে ইউনিয়ন এস্পানিওলার বিপক্ষে অভিষেক হয় ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের।
ভোজিনহার পুরো নাম জোসিমার এভোরা দিয়াস। গত ২৪ জুলাই তার সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেয় কোলো-কোলো। তবে কাগজপত্র-সংক্রান্ত জটিলতা ও ব্যক্তিগত কারণে চিলিতে তার যাওয়ার সময় তিনবার পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২ আগস্ট দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে পৌঁছান তিনি। বারবার যাত্রা পেছানোয় ক্লাবের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
চিলিতে পৌঁছেই কোলো-কোলোর অনুশীলনে যোগ দেন ভোজিনহা। ঘরোয়া লিগের শীর্ষে থাকা দলটি বর্তমানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিভেরসিদাদ দে চিলির চেয়ে ১৩ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।
ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর তিনটি ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। এর মধ্যে গত রোববার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ইউনিভেরসিদাদ দে চিলির বিপক্ষে সুপারক্লাসিকোও ছিল। তবে সেই ম্যাচে বেঞ্চেই থাকতে হয় তাকে।
অবশেষে বুধবার সুযোগ পেয়ে অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখেন ভোজিনহা। ইউনিয়ন এস্পানিওলাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোপা চিলির ‘গ্রুপ ই’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে কোলো-কোলো। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা জড়তা দেখা গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পোস্টের নিচে মানিয়ে নেন ভোজিনহা। প্রয়োজনের মুহূর্তে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিয়ে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেননি তিনি। ফলে নতুন ক্লাবের হয়ে প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন ক্লিন শিট।
বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ভোজিনহা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সেখানে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের কিছু কম। টুর্নামেন্ট শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৯০ লাখের বেশি।
ডিবিসি/ আরএফই