ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মহসেন রেজায়ি বলেছেন, ইরানের সাথে নিজের তৈরি করা সংকট সমাধানে চীনের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাহায্য প্রার্থনা এটাই প্রমাণ করে যে, উদীয়মান নতুন বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি লেখেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ে পৌঁছেছিলেন এবং সেখান থেকে বিদায় নিয়েছেন কোনো শক্তিশালী অবস্থান থেকে নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যর্থতার এক ভারী ছায়াতলে থেকে।
সম্প্রতি চীন সফরের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প তার চীনা সমকক্ষ শি জিনপিংয়ের কাছে সেইসব সংকট সমাধানে সহায়তা চেয়েছিলেন, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের উসকানিমূলক আগ্রাসনের ফলে তৈরি হয়েছে।
প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি, ইরান শত্রু এবং তাদের মিত্রদের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। একটি চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প ইরানের ওপর অবৈধ নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর, ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি এই জলপথের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে শুরু করে।
এই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে পেট্রোলের ক্রমবর্ধমান দাম ট্রাম্পের ইতিমধ্যেই রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পাওয়া জনপ্রিয়তা এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার জয়ের সম্ভাবনাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে।
মহসেন রেজায়ি তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, তিনি (ট্রাম্প) যখন নিজের তৈরি করা সংকট সামাল দিতে চীনের প্রভাবের দিকে তাকিয়ে আছেন, তার অর্থ হলো উদীয়মান নতুন বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত এমন কিছু নিয়ম তৈরি করছে যা আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত নয়।
উল্লেখ্য, তেহরানের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাথে পুনরায় কোনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-ইরানের ওপর থেকে অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার, সব ফ্রন্টে সব ধরনের আগ্রাসনের স্থায়ী অবসান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির সঠিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল