বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

নরসিংদীতে অতিরিক্ত এসপির নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

নরসিংদী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

মঙ্গলবার ৩১শে মার্চ ২০২৬ ০৮:৫২:২৫ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার শামীমের নাম ভাঙিয়ে আসামির পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ডিবি পুলিশের কথিত সোর্স হিসেবে পরিচিত।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে নরসিংদী পৌর শহরের পায়রা চত্বর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সোহান (২৫), শামীম ফকির (৩৫), শুভ (২৭)। নরসিংদী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার শামীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ চিনিশপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার শামীমের নেতৃত্বে ও ডিবি পুলিশের অংশগ্রহণে পরিচালিত এক অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় মনিরুজ্জামান (৩৬) নামে একজনকে একটি রামদাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।


পরদিন বিকেলে ডিবির কথিত সোর্স সোহান তার দুই সহযোগীকে নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামির পরিবারের কাছে যায়। তারা দাবি করে, ১০ হাজার টাকা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ম্যানেজ করে আসামিকে আদালতে চালান না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। তাদের কথায় সরল বিশ্বাসে আসামির পরিবার দাবি করা টাকা তুলে দেয়।


তবে পরবর্তীতে আসামিকে আদালতে চালান দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলে পরিবারের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, সোহান ও তার সহযোগীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এবং ওই কর্মকর্তার সাথে তাদের কোনো প্রকার পরিচয় বা যোগাযোগ নেই।


প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে অবহিত করে। তার পরামর্শেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এবং মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।


নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।


ওসি আরও জানান, ডিবির সোর্স পরিচয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এই প্রতারণার ঘটনায় ডিবির কোনো সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন