নরসিংদীতে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে এক সন্তানের জননী গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের চরমাধবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার (৩৫) পলাশ উপজেলার বারারচর এলাকার মজিবুর রহমানের মেয়ে এবং চরমাধবদী এলাকার বাবুল মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনে মাহমুদা ও বাবুল দম্পতির একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সংসারে অভাব-অনটনের জেরে পঞ্চাশোর্ধ্ব স্বামী বাবুল মিয়া প্রায়ই মাহমুদাকে নির্যাতন করতেন। রবিবার দুপুরে স্থানীয় বাজার থেকে মাহমুদা স্বামীর বাড়িতে ফেরার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে তার পরিবারের কাছে টেলিফোনে জানানো হয়। খবর পেয়ে মাহমুদার ভাতিজা সেখানে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং সেবাযত্ন করেন। সে সময় মাহমুদা কিছুটা সুস্থতা অনুভব করায় ভাতিজা ফিরে আসেন। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে মাহমুদার ছেলে ভিডিও কলে নিহতের বড় ভাই জালাল আহমেদকে জানান যে, মাহমুদা মারা গেছেন।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা সেখানে ছুটে যান এবং মাহমুদার শরীরে একাধিক নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান। তবে এ সময় স্বামী বাবুল মিয়া, শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম, শাশুড়ি ও ননদসহ ওই পরিবারের কাউকেই বাড়িতে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশের সহায়তায় রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তিনি আরও জানান, নিহত মাহমুদা আক্তার দীর্ঘ বছর ধরেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং তিনি নিয়মিত ইনসুলিন নিতেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত স্বামী বাবুল মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ডিবিসি/আরএসএল