নরসিংদীর মনোহরদীতে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের অবসান ঘটিয়ে আদালতের রায় অনুযায়ী প্রকৃত মালিককে চার শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় দখলকৃত জমির সীমানায় থাকা একটি বাড়ির আংশিক স্থাপনা ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়। বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের বড় মির্জাপুর গ্রামে এ উচ্ছেদ ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় মির্জাপুর গ্রামের মোকাররম আকনের ৫৫ ও ৫৬ নম্বর দাগে মোট ৮ দশমিক ২৫ শতক জমি রয়েছে। এ জমি নিয়ে খন্দকার আবদুল হামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মোকাররম আকনের অভিযোগ, জমির উত্তর ও দক্ষিণ চৌহদ্দির অংশে খন্দকার আবদুল হামিদের ছেলেরা বাড়ি নির্মাণ করে তার প্রায় চার শতক জমি দখল করে রাখেন।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালে নরসিংদী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন মোকাররম আকন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২১ সালে আদালত তার পক্ষে রায় দেন। তবে রায়ের পরও জমির দখল বুঝে না পাওয়ার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেন।
সর্বশেষ আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বুধবার জেলা নাজির মাহবুব রেজার উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম রনির মাধ্যমে পরিচালিত এ কার্যক্রমে প্রশাসনের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে দখলকৃত অংশে থাকা বাড়ির কিছু অংশ ভেঙে উচ্ছেদ করে মোকাররম আকনকে চার শতক জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মোকাররম আকন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খন্দকার আবদুল হামিদ ও তাঁর ছেলেরা- খন্দকার মাসুদ, খন্দকার মাহাবুর, খন্দকার মাসুম, খন্দকার মাহফুজ ও খন্দকার ইমরান জমিটি দখলে রেখেছিলেন। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি তার জমির দখল ফিরে পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা নাজির মাহবুব রেজা বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী বাদীকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় জমিতে থাকা স্থাপনা ভেঙে উচ্ছেদ করে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন