নরসিংদীর রায়পুরায় রাতের আঁধারে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের কান্দাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চরমরজাল কান্দাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পুলিশ পাহারায় জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে রবিবার রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমিকসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কান্দাপাড়া এলাকার দিপু (১৮) ও রাকিব হাসান রুবেল (২০)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির (১৬) এক ছাত্রীর সঙ্গে রিয়াম (১৭) নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে কয়েকজন অভিযুক্ত তাদের আটকে মারধর করে। একপর্যায়ে প্রেমিক রিয়াম পালিয়ে গেলেও কিশোরীকে জোরপূর্বক চরমরজাল দক্ষিণ কান্দাপাড়া এলাকার একটি নির্জন পতিত জমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
পরে ওই ভুক্তভোগী তরুণী রাত প্রায় ২টার দিকে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে রবিবার (২ আগস্ট) ভুক্তভোগীর মা রায়পুরা থানায় ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সোমবার রায়পুরা থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সেখানে আসামি দিপু ও রাকিব হাসান রুবেল পালাক্রমে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে আরও দুই অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে এলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টি এম ফরিদুল আলম বলেন, ‘সোমবার সকালে এ মামলার দুই আসামি দিপু ও রাকিব হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
ডিবিসি/ এসভিএন