নরসিংদীতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান এ রায় প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা পলাশ উপজেলার আবদুল রহিম মিয়ার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল থানার তালজাংগা গ্রামের মো. ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সাথে পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের আবদুল রহিম মিয়ার ছেলে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকে যৌতুক এনে দিতে সুমিকে চাপ দিতে থাকেন স্বামী রূপা। একপর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা এনে দেন স্বামীকে। টাকা এনে দেওয়ার কিছুদিন পরই পুনরায় আরও টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকেন। সুমির বাবার বাড়ি খুবই দরিদ্র হওয়ায় দ্বিতীয়বার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে সুমির ওপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন।
একপর্যায়ে নির্যাতন ও স্বামীর দাবীকৃত টাকা দিতে না পেরে সন্তান ও স্বামীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদেশে পাড়ি জমান। বিদেশ থেকে উপার্জিত সব টাকাই স্বামী রূপার কাছে পাঠাতেন স্ত্রী সুমি। দীর্ঘ দিন প্রবাসে থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ফেরেন।
দেশে ফেরার পর স্বামী রূপা মোটরসাইকেল কিনবেন বলে স্ত্রী সুমিকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে স্ত্রী দেশে পাঠানো টাকার হিসাব স্বামীর কাছে চাইলে তাদের মধ্যে পুনরায় কথা কাটাকাটি হয়। ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে স্বামী রূপা এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করে সুমির লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে চলে যান।
পরদিন ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে পলাশ থানা পুলিশ সুমির লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে গত ২০ নভেম্বর নিহতের পিতা ফজলু মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ৩০ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
ডিবিসি/ এসভিএন