আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

নাইজারের প্রধান বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দর দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের এক ভয়াবহ হামলায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাটি গত পাঁচ মাসের মধ্যে এই বিমানবন্দরে দ্বিতীয় কোনো বড় হামলার ঘটনা। নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং ২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটির আশপাশের বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ফজরের নামাজ শেষ করার পরপরই তারা বিকট শব্দ শুনতে পান। লাওয়ালি চালহা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, আমরা ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে নামাজ শেষ করি। এর পরপরই একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো গাড়ির টায়ার ফেটেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আমরা আসল ঘটনা বুঝতে পারি।


বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন জামাআত নুসরত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গত এক দশক ধরে নাইজার ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসেও এই বিমানবন্দরে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সাথে জড়িত একটি সংগঠন হামলা চালিয়েছিল।


প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ২২ হামলাকারী ছাড়াও আরও ৪ জন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আরপিজি-৭ লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক ও গ্রেনেড, আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম ও কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি।


হামলাকারীদের অনেকেই স্থানীয় জনসাধারণের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করলে বেসামরিক নাগরিকরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করতে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিকদের এই অভিযানে অংশ নিতে নিষেধ করে।


বর্তমানে পুরো বিমানবন্দর এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নাইজার বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।


দিওরি হামানি বিমানবন্দরটি নাইজারের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। এটি একই সাথে বেসামরিক বিমান চলাচল কেন্দ্র এবং সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মালি, বুর্কিনা ফাসো ও নাইজারকে নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক জোট অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস (এইএস)-এর বিভিন্ন স্থাপনাও এখানে রয়েছে।


গত জানুয়ারির হামলার পর নাইজারের সামরিক সরকারের প্রধান আবদুরাহামানে তিয়ানি এই হামলা নস্যাৎ করার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে এর নেপথ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছিলেন। সম্প্রতি সন্ত্রাসী ঝুঁকি এড়াতে বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা প্রাচীর বাড়ানোসহ ৩৫০টিরও বেশি নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল কর্তৃপক্ষ, তবে শেষ রক্ষা হলো না।


সূত্র: বিবিসি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন