আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

নাইজেরিয়ায় সেনা অভিযানে ৩০০-এর বেশি সশস্ত্র ডাকাত নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানে অপহরণ ও গবাদিপশু লুটে জড়িত সশস্ত্র ডাকাত চক্রের ৩০০-এর বেশি সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।

জামফারা রাজ্যের তথ্য কমিশনার মাহমুদ মুহাম্মদ দান্তাওয়াসা এক বিবৃতিতে জানান, গুমি জেলায় দুই দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে সরকারি বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৩০০-এর বেশি সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।


উত্তর ও মধ্য নাইজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশু চোর এবং জিহাদি সদস্যদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। তারা কৃষিজমিতে হামলা চালায়, গবাদিপশু লুট করে এবং মুক্তিপণের জন্য মানুষকে অপহরণ করে। নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করতে চাইলে অনেক কৃষকের কাছ থেকে চাঁদাও আদায় করে তারা।


নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিহাদি গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বেড়েছে। উভয় পক্ষই দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের সুযোগ নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করছে। গ্রামীণ ও দরিদ্র এলাকায় অপরাধী চক্রের বিস্তার ঘটেছে, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে জিহাদিরা গত ১৭ বছর ধরে বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে।


গুমি জেলার বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরোধ বাহিনী প্রায় এক হাজার সশস্ত্র দস্যুর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। তারা এর আগে গবাদিপশু লুট করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আবুবকর মুহাম্মদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, রাতভর এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে সেনা ও স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্যরা ৩০০-এর বেশি দস্যুকে হত্যা করেন।


বাসিন্দারা আরও জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী দস্যুদের শিবিরে অভিযান চালানোর চেষ্টা করলেও সংখ্যায় পিছিয়ে থাকায় তাদের পিছু হটতে হয়েছিল।


জামফারা রাজ্য সরকার এই অভিযানকে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বর্তমানে নাইজেরিয়া একাধিক নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। দেশটিতে বোকো হারাম এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে।


সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় নাইজেরীয় বাহিনী জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। ইসলামপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে শত শত সেনা মোতায়েন করেছে। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে ইসলামিক স্টেটের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা এবং প্রায় ২০০ যোদ্ধা নিহত হয়।


এদিকে দারিদ্র্য ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে দেশটিতে দস্যুবৃত্তিও বেড়েছে। জিহাদি ও সশস্ত্র দস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণহারে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।


শনিবার নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, ৪০ জনের বেশি অপহৃত শিশুকে উদ্ধারের অভিযানে তাদেরও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুদের জিহাদিরা অপহরণ করেছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই অপহরণের ঘটনা ঘটায় তা বিশেষভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ অঞ্চলটি এতদিন তুলনামূলক নিরাপদ বলে বিবেচিত ছিল।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন