নাটোরের লালপুরে একটি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে অতিথি না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে গ্রামজুড়ে ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’ বলে প্রচার চালানোর কারণে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার উপজেলার কেশবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মারুফ আলী ওই একই গ্রামের বাসিন্দা এবং লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামে প্রায় ৬০ বছর ধরে নিয়মিতভাবে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে আসছে। চলতি বছরও ১৫ দিন আগে টুর্নামেন্ট শুরু হয় এবং শুক্রবার ছিল ফাইনাল ম্যাচের দিন। তবে মারুফ আলী ফাইনাল ম্যাচে পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি এবং নিজেকে বিশেষ অতিথি করার দাবি জানান। আয়োজকরা সেই দাবি না মানায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরই জেরে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মারুফ আলী নিজ খরচে মাইক ভাড়া করে পুরো গ্রামে প্রচার চালান যে, খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং সেখানে কেউ জমায়েত বা খেলতে পারবে না। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং আয়োজকরা নিরাপত্তার স্বার্থে খেলা স্থগিত করেন।
গ্রামপ্রধান আজিজুর রহমান বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কেউ ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলী টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠানে গ্রামের ছেলে হিসেবে তাঁকে দাওয়াত না দেওয়ার কথা জানান। তবে ১৪৪ ধারা জারি করার মাইকিং করার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিবিসি/আরএসএল