নাটোরে একটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ায় মামলার সাক্ষীর মায়ের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে জামিনে মুক্ত আসামি ও তার সহযোগীরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামে হালিমা বেগমের নিজ বাড়িতে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। এসিডে দগ্ধ হালিমা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত হালিমা বেগম নাজিরপুর গ্রামের মৃত হারু মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মামলার সাক্ষী চামেলী বেগমের মা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, স্থানীয় নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি এর আগে এলাকার একটি শিশুকে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত নজরুলকে আটক করতে পুলিশকে সহায়তা করেন ইউপি সদস্য চামেলী বেগম। কিছুদিন কারাগারে থাকার পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয় নজরুল ইসলাম। জেল থেকে বেরিয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে নজরুল ও তার সহযোগীরা চামেলী বেগমকে হুমকি দিয়ে আসছিল।
এরই জের ধরে গতরাতে হালিমা বেগম জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তার ওপর এসিড ছুড়ে মারে। এ সময় তার চিৎকারে স্বজনরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাটোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোক্তাদির আরেফিন জানান, এসিড দগ্ধ হালিমা বেগমকে বর্তমানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ডিবিসি/এনএসএফ