নাটোরের সিংড়ায় একটি কুলখানি অনুষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টাকালে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের বেলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম নাঈম হোসেন (২২)। তিনি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার লাল মিয়ার ছেলে। তার সহযোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল (২৫) ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান। সোহেল মহিষমারী গ্রামের হান্নান আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল জানান, মহিষমারী গ্রামে মৃত আলাউদ্দিনের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠান চলছিল। বাড়ির পাশে বেলতলা এলাকায় নিজের ১৫০ সিসি এফজেডএস মোটরসাইকেলটি রেখেছিলেন ইকলাস হোসেন নামে এক ব্যক্তি। অনুষ্ঠান চলাকালে মোটরসাইকেলটির তালা ভাঙার চেষ্টা করেন সোহেল ও নাঈম। প্রথমে সোহেল ব্যর্থ হওয়ার পর নাঈম চেষ্টা চালালে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। বিষয়টি টের পেয়ে সোহেল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও স্থানীয় জনতা নাঈমকে ধরে ফেলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আটকের পর গণধোলাই দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নাঈম বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চুরির চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পলাতক সোহেলের বাবা হান্নান আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
মোটরসাইকেলের মালিক ইকলাস হোসেন বলেন, আমার মোটরসাইকেলের তালা ভাঙার চেষ্টা করতে দেখে সন্দেহ হলে আমরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলি। পরে সে বিভিন্ন এলাকায় চুরির কথা স্বীকার করে। আমরা এলাকায় এসব অপরাধের স্থায়ী প্রতিকার চাই।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর হাতে আটক নাঈম হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ডিবিসি/এসএফএল