নিখোঁজ নন, গুলিতে নিহত হয়েছিলেন জহির রায়হান। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সেদিনের মিরপুরে যুদ্ধ করতে করতে বেঁচে যাওয়া সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন এমনটাই জানিয়েছিলেন।
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ৩ দিন আগে একাত্তরের ১১ই ডিসেম্বর আলবদর সদস্যরা ধরে নিয়ে যায় প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সারকে।
১৯৭২ সালে ৩০শে জানুয়ারি সকালে জহির রায়হানকে কায়েতটুলির বাসায় ফোনে জানানো হয় শহীদুল্লাহ কায়সারকে মিরপুর আটকে রাখা হয়েছে। তারপর থেকে ভাইকে খুঁজতে গিয়ে চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান নিজেই নিখোঁজ হয়েছেন- এপর্যন্তই তথ্য ছিল।

১৯৯৯ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত হয় ওইদিনের ঘটনা নিয়ে জুলফিকার আলি মাণিকের দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদন অনুসারে, সেদিন-বাহাত্তর সালের ৩০শে জানুয়ারি মিরপুরে ১২ নম্বর সেকশনে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়েছিল সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল। শহীদুল্লাহ কায়সারের খোঁজ পেতে তাদের সঙ্গ নেন ছোট ভাই জহির রায়হান।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে জুলফিকার আলি মাণিক সাক্ষাৎকার পান ওই অপারেশনে অংশ নেওয়া সেনা সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আমীর হোসেনের। তার বর্ণনা অনুসারে, ওই অপারেশনে সেদিন বেলা ১১টায় পজিশন নেয়ার আগেই তাদের ওপর হামলা চালায় বিহারিরা।
এসময় অবাঙালি বিহারিদের ছোঁড়া গুলিতে ঝাঁজরা হয় জহির রায়হানের বুক। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ এরপর অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায় বিহারীরা।
১৯৩৫ সালে ১৯ আগস্ট ফেনী জেলার মজুপুরে জন্ম নেয়া জহির রায়হান মাত্র ৩৬ বছর বয়সের জীবনেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী একজন কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র-পরিচালক হিসেবে। তার প্রথম গল্প ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। এছাড়া জহির রায়হানের রয়েছে ৮টি উপন্যাস। চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন ১৯৫৭ সালে। জহির রায়হানের হারিয়ে যাওয়ার ৫০ বছর আজ।