আন্তর্জাতিক

নিজের মস্তিষ্কের টিউমারের ওপর নতুন ওষুধ পরীক্ষা করার পর ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিশ্বখ্যাত ক্যান্সার গবেষক অধ্যাপক রিচার্ড স্কোলিয়ার মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। নিজের চূড়ান্ত পর্যায়ের ব্রেন টিউমারের ওপর পরীক্ষামূলক ইমিউনোথেরাপি প্রয়োগ করে তিনি প্রথম রোগী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

২০২৩ সালে স্কোলিয়ারের গ্লিওব্লাস্টোমা (Glioblastoma) ধরা পড়ে, যা সবচেয়ে আক্রমণাত্মক এবং নিরাময় অযোগ্য ব্রেন ক্যান্সারগুলোর মধ্যে একটি। তবে তিনি প্রচলিত উপশমমূলক চিকিৎসার সময়সীমা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরিবর্তে, এই প্যাথলজিস্ট তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও অনকোলজিস্ট জর্জিনা লঙের সাথে মিলে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন। তারা উন্নত পর্যায়ের মেলানোমা চিকিৎসায় তাদের উদ্ভাবিত সফল ইমিউনোথেরাপি কৌশলটিকে ব্রেন ক্যান্সারের জন্য উপযোগী করে তোলেন।

 

নিজের ওপর চালানো বিশ্বের প্রথম এই মেডিকেল ট্রায়ালে, টিউমার সক্রিয় থাকাকালীন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্কোলিয়ার সার্জারির আগেই পরীক্ষামূলক ইমিউনোথেরাপি গ্রহণ করেন। নিজের চিকিৎসা ও এই যাত্রার কথা রিয়েল-টাইমে জনসমক্ষে প্রকাশ করে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য অমূল্য তথ্য (ক্লিনিক্যাল ডেটা) প্রদান করে গেছেন, যা এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পথ প্রশস্ত করেছে।

 

যদিও পরীক্ষামূলক এই চিকিৎসা তাকে পুরোপুরি ক্যান্সারমুক্ত করতে পারেনি, তবে এটি স্কোলিয়ারের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছিল এবং ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক মৌলিক পরিবর্তন এনেছে।

 

২০২৪ সালের অস্ট্রেলিয়ান অফ দ্য ইয়ার খেতাবপ্রাপ্ত এই চিকিৎসকের মৃত্যু হয় ২০২৬ সালের ৭ জুন। মৃত্যুর আগে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে তার এই চূড়ান্ত ও একান্ত ব্যক্তিগত অবদান ভবিষ্যতের রোগীদের আরও বেশি সময় বেঁচে থাকার সুযোগ ও আশার আলো দেখাবে।

 

মেলানোমা বা ত্বকের ক্যান্সারকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগে পরিণত করার পাশাপাশি, ক্যান্সার বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে নিজেকে একটি 'জীবন্ত পরীক্ষাগারে' পরিণত করার অসীম সাহসী এই চূড়ান্ত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তার নিঃস্বার্থ অবদান আজীবন অমর হয়ে থাকবে।

 

ডিবিসি/এইচএপি  

আরও পড়ুন