ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার (উয়েফা) সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনি। ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, ফিফা সভাপতি ফুটবলের নিয়ম রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নেওয়া বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন প্লাতিনি। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচের অতিরিক্ত বিরতি এবং ফাইনালের বিরতির সময় বাড়িয়ে ৩০ মিনিট করা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাটিরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
ফিফার অংশবিশেষ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্তের কারণে ইনফান্তিনোর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই ফরাসি তারকা।
২০১৬ সাল থেকে ফিফার দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসে আবারও সভাপতি পদে লড়তে চান। তবে ২০২৭ সালের নির্বাচন সামনে রেখে উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তার বিরোধিতায় শক্ত অবস্থান নিয়েছে। উয়েফা সুইস আইনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খুঁজছে।
প্লাতিনির মতে, ক্রীড়া আদালতের চেয়ে সাধারণ আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমেই ইনফান্তিনোকে অপসারণ করা বেশি কার্যকর হতে পারে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্টকে প্লাতিনি বলেন, ‘ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে না বা তিনি ক্ষমতাচ্যুত হবেন না। উয়েফা যদি সত্যিই ইনফান্তিনোকে সরাতে চায়, তবে আদালতের পথেই যেতে হবে। আমি সবসময় জানতাম তিনি অর্থ এবং ক্ষমতার লোভী।’
উল্লেখ্য, একসময় ফিফা সভাপতি পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন প্লাতিনি। তবে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে সুইজারল্যান্ডের একটি আদালত তাকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। প্লাতিনি অভিযোগ করেছেন, ইনফান্তিনো তার পতনের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মানহানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ফ্রান্সে একটি মামলাও দায়ের করেছেন প্লাতিনি।