আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে বইছে ভোটের হাওয়া। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চিরাচরিত দৃশ্য সাধারণত ঈদ বা বড় উৎসবে দেখা গেলেও, এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। নিজের ভোট নিজে দেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সৃষ্টি হয়েছে উপচেপড়া জনস্রোত। ঘরমুখো মানুষের চাপে সদরঘাট এলাকা এখন যেন এক উৎসবের নগরী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর সায়দাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে ছিল মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছিল না কাঙ্ক্ষিত বাসের টিকিট।
রামপুরার সবজি বিক্রেতা হারুন বলেন, আগে ভোট দিতে পারিনি। এবার মনে হচ্ছে নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারব। কষ্ট হলেও এবার বাড়ি যাবই।
ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ ও যারা আগে কখনো ভোট দিতে পারেননি, তাদের মধ্যে উদ্দীপনা সবচেয়ে বেশি। মহাখালি সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, আমি ভোলা যাবো, প্রায় ৫ ঘণ্টার যানজট ঠেলে সদরঘাট পৌঁছেছি। তিনি বলেন, এবার প্রথম ভোটার হয়েছি। আগে কখনো ভোট দিতে পারিনি তাই এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ অনেক বেশি। এছাড়া এভারের ভোট অন্যবারের তুলনায় একটু ভিন্ন।
সদরঘাটে যাত্রীদের এই নজিরবিহীন চাপ সামলাতে লঞ্চের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) মোবারক হোসেন জানান, সদরঘাট থেকে ৩২টি রুটে নিয়মিত লঞ্চের চেয়ে অতিরিক্ত বিশেষ লঞ্চ পরিচালনা করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বরিশালের নিয়মিত ২টি লঞ্চের পরিবর্তে আজ ৭টি লঞ্চ ছাড়ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে বড় আকারে ভাড়ার চার্ট টানানোসহ কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। সদরঘাটের এই ভিড় আর সাধারণ মানুষের চোখেমুখে ভোট দেওয়ার যে আকুতি, তা যেন সেই পূর্বাভাসেরই প্রতিফলন।
ডিবিসি/ এসএফএল